ঢাকায় ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে

ঢাকায় ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকায় ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ভূমিকা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এই সম্মিলনের আয়োজন করেছে। আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের গণমাধ্যম খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময়ের লক্ষ্যেই এই সম্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মিলনে নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্যকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক, সম্পাদক ও প্রকাশকরাও এই সম্মিলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের গণমাধ্যম নানা ধরনের পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, পাঠক ও দর্শকের অভ্যাসের পরিবর্তন, আর্থিক টেকসইতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং নৈতিক সাংবাদিকতা বজায় রাখার বিষয়গুলো গণমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। এসব বাস্তবতার আলোকে সম্মিলনে গণমাধ্যম পরিচালনা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, পেশাগত মান রক্ষা এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ধরনের সম্মিলনকে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া জোরদারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অন্যান্য গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিকরা একই মঞ্চে মিলিত হয়ে অভিন্ন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। এতে করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গণমাধ্যম খাত দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে কারণে এই খাতের স্বচ্ছতা, পেশাগত মান এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মিলনে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ বা মতামত উঠে আসতে পারে।

সম্মেলনের সময়সূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনাসভা ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক সংগঠনগুলো আশা করছে, সম্মিলনের মাধ্যমে গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং দেশের গণমাধ্যমের পেশাগত পরিবেশ উন্নয়নে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ