জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আজ

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আজ

 

রাজনীতি ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আজ বৃহস্পতিবার হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানাতে রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সমঝোতায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এর আগে সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ১০টি দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকটি রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। আসনবণ্টন, ইসলামী আন্দোলনের জোটে অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমঝোতার চূড়ান্ত বিবরণ প্রকাশ করা হবে।

সূত্র জানায়, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে বিরতি দেওয়া হয় এবং এরপর নেতাদের আবার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন এখনও এই নির্বাচনি জোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাদের অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং রাত ৮টার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নেতারা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সমঝোতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী Islamist-সমর্থক দলগুলোর ভোট এবং জোটের প্রভাবকে কেন্দ্র করে গঠিত হচ্ছে। সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা নির্বাচনী রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন কৌশল এবং জোট বিন্যাসের দিক নির্দেশ করবে। এছাড়া, ইসলামী আন্দোলনের অন্তর্ভুক্তি বা অনুপস্থিতি নির্বাচনের প্রচারণা, ভোট বণ্টন এবং নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচন কমিশনকে সমঝোতার বিষয়গুলো সরাসরি জানানো হবে এবং এর ভিত্তিতে দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণা এবং সমন্বয় কার্যক্রম এগোবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠকে আলোচিত আসনবণ্টন এবং জোট সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তগুলি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

জোটের ভেতরের দ্বন্দ্ব, বিভিন্ন দলের অন্তর্ভুক্তি ও প্রার্থীর আসনবণ্টন আগামী নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব এবং ভোট প্রদানের ধরণকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে। পাশাপাশি, সমঝোতার মাধ্যমে Islamist-সমর্থক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক প্রভাবকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, রাত ৮টায় ডাক দেওয়া সংবাদ সম্মেলনের পর সমঝোতার চূড়ান্ত কাঠামো এবং জোটের সকল দলে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে। দলগুলো এ ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রচারণা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করবে।

সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটার প্রতিক্রিয়ার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে বলছেন। এই জোট জাতীয় নির্বাচনে Islamist-সমর্থক শক্তিগুলোর সংহতি এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ