জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের জন্য নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের আলোকে এই তফসিল চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গত ১৫ জানুয়ারির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করে এই নতুন তফসিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ জানুয়ারি রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তা অথবা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পরদিন ১৯ জানুয়ারি সোমবার দাখিল করা মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল দায়ের করা যাবে। এসব আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ জানুয়ারি।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি। এরপর ২৭ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সব কার্যক্রম শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই তফসিল ঘোষণার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা। নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে একটি গেজেট প্রকাশ করে। ওই গেজেটে পাবনা জেলার আসনগুলোর সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে সেগুলোকে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আইনি আপত্তি ওঠে এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনের ওই গেজেট অবৈধ ঘোষণার একটি রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে আপিল বিভাগ আদেশ দেন যে, নতুন সীমানা অনুযায়ী পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন আয়োজন করতে কোনো আইনগত বাধা নেই।
আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, সাঁথিয়া উপজেলাকে পাবনা-১ আসন হিসেবে এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনের পথ সুগম হয়।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গত ১৫ জানুয়ারি এই আদেশ দেন। আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন তফসিল ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে এবং নির্ধারিত তারিখে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পাবনা জেলার এই দুইটি আসন ঘিরে সীমানা নির্ধারণ ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নির্বাচন নিয়ে যে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল, নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে তা নিরসন হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


