খেলাধূলা ডেস্ক
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সামনে রেখে ভারতে প্রবেশের ভিসা পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন বিভিন্ন দেশের কয়েকজন ক্রিকেটার। সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দুই স্পিনার আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদ। এখনো তারা ভারতের ভিসা পাননি, ফলে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) সূত্রে জানা গেছে, দুই ক্রিকেটারের ভিসা আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যদিও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের ভিসা প্রদানে কোনো আপত্তি নেই, তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসিবি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিক হলেও যদি তিনি নিজে অথবা তার বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তাহলে তাকে পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী হিসেবে বিবেচনা করে ভিসার জন্য আলাদা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা ধাপ থাকায় সময় বেশি লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিসা অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদ—উভয়েরই পারিবারিক শিকড় পাকিস্তানে থাকায় তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে। এর আগে সহযোগী পাঁচটি দেশের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কয়েকজন ক্রিকেটারও একই ধরনের ভিসা জটিলতার মুখে পড়েছিলেন। ফলে বিষয়টি কেবল ইংল্যান্ড দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী একাধিক দলের জন্যই এটি একটি আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে আদিল রশিদ দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ২০ লিগে খেলছেন এবং রেহান আহমেদ ব্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে। ভিসা অনুমোদন পেলে তারা সরাসরি শ্রীলঙ্কা অথবা ভারতে গিয়ে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে তাদের উপস্থিতি ইংল্যান্ড দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ইসিবি আশাবাদী, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই দুই স্পিনার ভিসা পেয়ে যাবেন। দলের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ ধরনের ভিসা জটিলতা ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য নতুন নয়। দুই বছর আগে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্ট সিরিজে একই সমস্যার কারণে শোয়েব বশির প্রথম টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে ভিসা জটিলতা কাটলেও ম্যাচটি তার জন্য হাতছাড়া হয়ে যায়। একই সময়ে সাকিব মাহমুদও ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।
বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আয়োজক দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতির কারণে অনেক সময় এই ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। ক্রিকেট বোর্ডগুলো সাধারণত এসব বিষয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিলেও, সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিমালার কারণে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতসহ আয়োজক দেশগুলোর ভিসা নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যে ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বহুজাতিক দলগুলোর খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সময়মতো ভিসা নিশ্চিত করা না গেলে দল গঠনে ও প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদের ভিসা পরিস্থিতি সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।


