নবম জাতীয় পে স্কেলে গ্রেড অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত, বেতন কাঠামো চূড়ান্তে অনিশ্চয়তা

নবম জাতীয় পে স্কেলে গ্রেড অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত, বেতন কাঠামো চূড়ান্তে অনিশ্চয়তা


অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দীর্ঘদিনের আলোচনা ও প্রত্যাশার পর সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে পে কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশন সভায় গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণে একমত হতে না পারায় পুরো বেতন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

পে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রেড সংখ্যা কমানো বা পুনর্গঠনের বিষয়ে কমিশনের ভেতরে আলোচনা হলেও প্রশাসনিক জটিলতা, বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং বাস্তবায়নযোগ্যতার বিষয় বিবেচনায় রেখে বর্তমান ২০টি গ্রেডই বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের ধারণা, গ্রেড কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কার্যকর হবে।

কমিশনের এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তন না করেই নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা হবে। এতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং অতীতের পে স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে বেতন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের সীমা নির্ধারণ—নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় কমিশনের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।

বৃহস্পতিবারের সভায় মূলত বেতন কাঠামোর পাশাপাশি পেনশন, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য ভাতাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অঙ্ক নির্ধারণে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও চূড়ান্ত করা যায়নি। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এই দুটি অঙ্ক নির্ধারণ করা না গেলে পুরো কাঠামোর আর্থিক ভারসাম্য ও বাস্তবায়নযোগ্যতা মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।

সূত্র আরও জানায়, কমিশনের সদস্যদের মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন কত হওয়া উচিত—এ বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব রয়েছে। কেউ কেউ বিদ্যমান জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম জীবনমান বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার আরেকটি পক্ষ রাষ্ট্রীয় আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলনামূলক সংযত প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বেতন বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার বিষয়টি আলোচনায় এলেও তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে কমিশনের পরবর্তী সভা আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় বিশেষভাবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণ নিয়ে পুনরায় আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য, এসব মূল বিষয়ের নিষ্পত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুসংগঠিত বেতন কাঠামোর খসড়া প্রস্তুত করা।

এদিকে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়েই কমিশনের ভেতরে অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবারই খণ্ডকালীন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বর্তমান আর্থিক সংকট, বাজেট সীমাবদ্ধতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার এখনই নতুন পে স্কেল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে এ উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত কাঠামো প্রস্তুত করা যায়।

কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। নির্বাচন শেষে গঠিত নতুন সরকার ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। এদিকে নতুন পে স্কেল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলেও বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা মহার্ঘ ভাতাসহ অন্যান্য অনুমোদিত সুবিধা পেতে থাকবেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ