রাজনীতি ডেস্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তরাষ্ট্র ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত প্রায় আধাঘণ্টার এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ও সম্ভাব্য বাণিজ্য আলোচনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং দ্বিপক্ষীয় ট্রেড নেগোসিয়েশনের অগ্রগতি সম্পর্কে তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত যে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী—সে বিষয়টি জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন জেমিসন গ্রিয়ার।
জবাবে তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকার যে প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে, সে বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, ট্রেড নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, তাতে বিএনপির সম্মতি রয়েছে। তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা নতুন গতি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রম অধিকার, বাজারে প্রবেশাধিকার, শুল্ক কাঠামো এবং সরবরাহ শৃঙ্খল–সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভের সরাসরি আলোচনা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির টেলিবৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে রাজি হননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হলেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকটির বিশেষ তাৎপর্য এই কারণে যে, তারেক রহমান বর্তমানে কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই। সে সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর সরাসরি আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নজর কেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত থাকতে আগ্রহী।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্রেন্ডা লিঞ্চ, যিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের ডিরেক্টর এমিলি অ্যাশবি, ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ রিক সুইৎজার, ইউএসটিআরের চিফ অব স্টাফ স্যাম মুলোপুলোস এবং ডেপুটি ইউএসটিআরের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার ডি. আর. সেকিঞ্জার বৈঠকে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বৈঠক ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিকেই প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য নীতির ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা স্পষ্ট করতে এ আলোচনা সহায়ক হতে পারে।


