রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার, তৈরি পোশাক খাতে বাজারপ্রবেশের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উভয় পক্ষ বিদ্যমান বাণিজ্য কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন এবং সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এবং একই অঞ্চলের পরিচালক এমিলি অ্যাশবি উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুখপাত্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান। বৈঠকটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় এবং আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাণিজ্যিক শুল্কনীতি, বাজারপ্রবেশ এবং বিনিয়োগ সহায়তা।
দলীয় প্রচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান এই আলোচনা উদ্যোগের জন্য রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পারস্পরিক শুল্কহারসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার তাকে অবহিত করেছেন যে, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের জন্য পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। এ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান ওই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দলীয় সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা বা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত মানবসৃষ্ট (ম্যানমেড) ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতে সম্ভাব্য প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
বৈঠকে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির বর্তমান অবস্থা এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতিও আলোচনায় আসে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আলোচনায় বাণিজ্য সহজীকরণ, শুল্ক কাঠামোর স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
ডা. শফিকুর রহমান বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তার দল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। তবে এসব বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যার অংশ হিসেবে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (ডিএফসি) অর্থায়ন সুবিধা প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। দলীয় তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার ডিএফসি তহবিলের আওতায় বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে সমর্থনের কথা জানান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের অর্থায়ন সুবিধা অবকাঠামো, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরাসরি সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হতে পারে। বৈঠকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয় ভবিষ্যতে এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে।


