বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখছে না ইইউ মিশন

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখছে না ইইউ মিশন

রাজনীতি ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট গণভোট পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুভব করছে না বলে জানিয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউ মিশন ইতোমধ্যে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশজুড়ে মোতায়েন করেছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মিশনের নিজস্ব নিরাপত্তা নির্দেশনা ও ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেগুলো অনুসরণ করেই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ তারা দেখছেন না।

ইন্তা লাসে বলেন, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা এবং তা বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি যাচাই করা। তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সময় মিশন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে না এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই তাদের প্রধান নীতি।

এর আগে, এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ মিশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ওই সময় মিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রত্যাশার কথা জানানো হয়। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইইয়াবস তখন বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বলতে দেশের সকল নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করাকে বোঝানো হয়। বিশেষ করে নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তিনি বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভোটার উপস্থিতির মাত্রা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের প্রতিফলন ঘটায়।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন জানিয়েছে, এটি ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে পাঠানো তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। এই মিশনে ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও অংশগ্রহণ করবেন। মোট পর্যবেক্ষকের সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনের ঠিক আগে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক থাকবেন। পাশাপাশি, ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন।

ইন্তা লাসে জানান, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল—শহর, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে গিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবেন। এ সময় তারা ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।

মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনগত কাঠামো এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে করে তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে পারবেন।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন, যারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল সংকলনের প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচনের দিন কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন শেষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। পরে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে, যা প্রকাশ্যে উন্মুক্ত করা হবে। মিশনের কার্যক্রম ২০০৫ সালে জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ