১২ তারিখের নির্বাচনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল’ হিসেবে উল্লেখ করলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

১২ তারিখের নির্বাচনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল’ হিসেবে উল্লেখ করলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

সারাদেশ ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। তিনি বলেন, এ নির্বাচন শুধু অভ্যন্তরীণভাবে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গভীরভাবে পর্যবেক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা বর্তমান বাস্তবতায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভানের মাধ্যমে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি নির্বাচন, গণভোট এবং চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে এর আগেও একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিও নিবদ্ধ রয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে গণভোট ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়কে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে অর্জন এসেছে, তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেন, এই অর্জন ও পরিবর্তনকে ঘিরে সমাজের একটি অংশের মধ্যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তবে এসব নেতিবাচক প্রবণতার সঙ্গে বিতর্কে না জড়িয়ে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে প্রায়ই দেখা গেছে এক সরকারের নেওয়া উদ্যোগ পরবর্তী সরকার এসে বাতিল করে দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার সেই ধারাবাহিকতা ভাঙবে এবং গৃহীত সংস্কার ও সিদ্ধান্তগুলো টেকসই হবে। তাঁর মতে, গণভোটে সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যতে যে সরকার গঠিত হবে, তাকেও একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম বজরুল রশীদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে গণভোট ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এবং সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। তাঁরা ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার শরীফ এবং সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু। এ ছাড়া জেলার নয়টি উপজেলার প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভানের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গণভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক মনোভাব তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সভার শুরুতে মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের এই ধরনের সরাসরি মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক বার্তাগুলো স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবে এসব আয়োজন কাজ করছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ