বরগুনা পুলিশ বরগুনার পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমান গ্রেপ্তার

বরগুনা পুলিশ বরগুনার পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমান গ্রেপ্তার

রাজনীতি  ডেস্ক

বরগুনার পাথরঘাটা থানার পুলিশ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে পৌর শহরের ঈমান আলী সড়কে অবস্থিত বজলুর রহমানের মালিকানাধীন একটি ফার্মেসি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার একজন আসামি হিসেবে।

পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন, বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে পাথরঘাটা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম (৫৮), হৃদয় মোল্লা (১৯), ইমরান মোল্লা (১৮), এমদাদুল হক (৩০), মো. ওমরসানী (৩০), মো. মুন্না (২৪), মো. নাসির (২২), মো. মোস্তফা (৪০), তোয়া ইব্রাহিম (৩২), পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের সদস্য মো. নাসির চৌধুরী এবং ছাত্রশিবির নেতা আব্দুর রহমান।

ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট চৌরাস্তা এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় চরদুয়ানী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুক এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারী গুরুতর আহত হন। তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেলিম বেপারীর স্ত্রী শাহানাজ পারভীন ১৪ জানুয়ারি পাথরঘাটা থানায় ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বজলুর রহমান ওই মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার অনুসারে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকেও থানায় মামলা করা হয়েছিল। মামলার পাল্টাপাল্টি করার পর প্রশাসন বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেয়। তবে তার পরেও পৌর জামায়াতের আমিরসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম মনিরের মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পর পাথরঘাটার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অব্যাহতভাবে অভিযান চালানো হবে এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

শুধুমাত্র ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার বিষয়ক তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে; তদন্ত চলমান থাকার কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি অফিসিয়াল বিবৃতি অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ