ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন

ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা পুরোপুরি সরে গেছে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তাদের নেতৃত্বাধীন অন্যান্য দেশের সেনারাও অবস্থান করছিল। ঘাঁটি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরাকের সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে।

ইরাকি সেনাবাহিনীর এক কর্নেল জানান, ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা প্রায় সম্পূর্ণভাবে সরে গেছে। বর্তমানে খুব অল্প কয়েকজন সেনা লজিস্টিক কাজের জন্য ঘাঁটিতে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হলে তারা ও ঘাঁটি ছাড়বেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি আরও বিস্তারিত তথ্য জানাননি।

আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি দীর্ঘ ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। ২০২০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ওই ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ঘাঁটি তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তৎকালীন মার্কিন সেনাদের মধ্যে মানসিক চাপের সমস্যাও দেখা দেয়।

২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হয়। সূত্র অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইন আল-আসাদ ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরানোর কাজ শুরু করেছিল। চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে ঘাঁটি সম্পূর্ণরূপে খালি করে দেওয়া হবে।

ইরাকের এই সিদ্ধান্তে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে। ঘাঁটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেওয়ায় ইরাকি সেনাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির ওপর নজরদারি বেড়ে যাবে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস পাওয়ায় অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সম্ভাব্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

এই প্রত্যাহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নতুন সমন্বয় গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইরাকের সামরিক প্রস্তুতি ও ঘাঁটিতে লজিস্টিক কার্যক্রমের মান বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ