রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটাধিকার সুরক্ষা, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তব্যে সারজিস আলম ভোটের গুরুত্ব ও নাগরিক দায়িত্বের বিষয়ে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, একটি ভোট শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। জনগণ যদি ভয়, প্রলোভন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছে নতি স্বীকার করে ভোট প্রদান করে, তাহলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পড়ে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, হয়রানিমূলক মামলা, হুমকি এবং অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড কারা করেছে, তা জনগণকে বিবেক দিয়ে বিচার করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যদি নিজ দলের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তাকেও ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সারজিস আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের বাইরে গিয়ে জনগণের উচিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বর্জন করা। তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। এই অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ না হলে আবারও পূর্বের অনিয়ম ও দুর্ব্যবস্থার দিকে ফিরে যেতে হতে পারে।
ভোটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, জালিয়াতি বা ভোট চুরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় তিনি অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে আগেও অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই ধরনের সচেতনতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে পারলে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য নৈতিকতা ও আদর্শকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভোটের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হন, তাদের কর্মকাণ্ডের দায়ভারও ভোটারদের ওপর বর্তায়। সে কারণে ভোট প্রদানের আগে প্রার্থীর ভূমিকা, আচরণ এবং অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশে সারজিস আলম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সংঘাত নয়, বরং আইনের মধ্যে থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।
এই নির্বাচনী সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পঞ্চগড় জেলা আমির অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এনসিপির কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, পঞ্চগড়-১ আসনটি উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রার্থীদের বক্তব্য ও অবস্থান ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


