ধর্ম ডেস্ক
পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তা বহনকারী শবে বরাতের তারিখ নির্ধারণে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে। শাবান মাসের চাঁদ দেখা এবং শবে বরাতের তারিখ নির্ধারণের জন্য ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নির্ধারিত ফোন নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কেও বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।
ইসলামী বিধান অনুসারে শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) পালিত হয় পবিত্র শবে বরাত। এই উপলক্ষে পরদিন বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। শাবান মাস শেষ হওয়ার পরই মুসলমানরা রমজান মাসের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
আজ সোমবার যদি শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হবে। চাঁদ দেখা না গেলে রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস শুরু হবে, যার ফলে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হবে।
ইসলামে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন চারটি রাতের মধ্যে শবে বরাত অন্যতম। বিশ্বাস করা হয়, এ রাতে পরম করুণাময় আল্লাহ বান্দাদের জন্য রহমত ও দয়ার ভাণ্ডার খুলে দেন। শবে বরাতের গুরুত্ব রমজান মাসের আগমনের সংবাদও বহন করে।
‘শবে বরাত’ শব্দটি দুটি ভিন্ন ভাষার সমন্বয়ে গঠিত; ‘শব’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ রাত, এবং ‘বরাত’ আরবি শব্দ, যার অর্থ নাজাত বা মুক্তি। অর্থাৎ শবে বরাত বলতে বোঝায়—জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার রাত।
নির্ভরযোগ্য হাদিস অনুযায়ী এই রাতে ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নবীজী (সা.)-এর যুগ থেকে সাহাবা, তাবেইন ও তাবে-তাবেইনের মধ্যে নফল ইবাদত পালনের প্রথা চলে আসছে। হাদিস শরিফে এই রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ রাতে ইবাদত করা প্রমাণিত ও প্রচলিত।


