রাজনীতি ডেস্ক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রোববার (১৮ জানুয়ারি) বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই আপিল শুনানি সম্পন্ন করেছে এবং তারা চাইছেন সকল প্রার্থীর অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের শর্ত শিথিল করা হয়েছে যাতে নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক হয়।
সিইসি বলেন, “অনেকেই হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর শিথিল করার সিদ্ধান্ত প্রদর্শন করে যে আমরা কোনো পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নিইনি। আমরা অনেক বিচার-বিবেচনা এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, আপিল শুনানিতে প্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “আপনারা যেভাবে প্রশ্ন করেছেন এবং জবাব দিয়েছেন, তা দেখে আমি অভিভূত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অংশগ্রহণের জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
এর আগে একই দিনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান নির্বাচক কর্মকর্তা সঙ্গে বৈঠকে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিদেশে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর প্রক্রিয়া এবং মুদ্রণ প্রণালিতে দলীয় সুবিধা প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে। মির্জা ফখরুল নির্বাচন কমিশনকে ব্যালট পেপার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
সিইসির মন্তব্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের শর্ত শিথিল করা এবং আপিল শুনানির স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে সমতা বজায় থাকবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এক শতাংশ ভোটার সমর্থন শর্ত শিথিল করা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি, পোস্টাল ব্যালটের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নির্বাচনের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে বলে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এ ধরনের উদ্যোগ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। ইসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকল অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


