দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে ২০ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, দুজন বাতিল

দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে ২০ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, দুজন বাতিল

জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতায় থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন—এমন প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে আপিল করা ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও অন্যান্য অভিযোগে আপিল করা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র পর্যালোচনা করা হয়। শুনানি শেষে কমিশন জানায়, নির্ধারিত আইন ও বিদ্যমান নথিপত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, শুনানিতে অংশ নেওয়া ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একজন প্রার্থীর বিষয়ে রায় স্থগিত রাখা হয়েছে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত। বাকি ২০ জনের মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে, ফলে তারা নির্বাচনী প্রচারসহ সব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভুঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। শুনানিতে তিনি বা তার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় কমিশন তার আপিল গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তার তুরস্কের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে অতিরিক্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপিত হলে তার মনোনয়ন বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু করায় যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুজ্জামান, ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ, সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী তাহির রায়হান এবং মৌলভীবাজার-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শওকতুল ইসলাম।

এছাড়া হবিগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুজাত মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী জুনায়েদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী কবির আহমেদ ভুঁইয়া, ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম এবং রংপুর-১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের জাতীয় পার্টি প্রার্থী খোরশেদ আলম, নাটোর-১ আসনের খেলাফত মজলিশ প্রার্থী আজাদুল হক, যশোর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোসলেম উদ্দীন ফরিদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াত প্রার্থী একে ফজলুল হক, শেরপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফাহিম, চট্টগ্রাম-৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আমজাদ হোসেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহ, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের বাইরে অন্য অভিযোগে একটি মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, রোববার দুই দফায় মোট ৬৩ জন প্রার্থীর আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিলের মধ্যে ২১টি মঞ্জুর করা হয়েছে, মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে করা দুটি আপিল গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৩৫টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে।

শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষপাত ছাড়াই সংবিধান ও প্রচলিত আইনের আলোকে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি আপিল আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে নথিপত্র ও আইনি অবস্থান বিবেচনায় রায় দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ