আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা সংকটসহ বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে নতুন শান্তি উদ্যোগে যোগ দিতে ভারত ও পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য দুই দেশের কাছে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভারতের একটি জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে নয়াদিল্লি এই আমন্ত্রণ পেয়েছে, তবে এ বিষয়ে ভারত সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা অবস্থান জানায়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও একই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, চলমান মানবিক সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে তারা যুক্ত থাকতে আগ্রহী।
উদ্যোগটির আওতায় প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস এবং পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে কানাডা, তুরস্ক, মিসর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়াকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে—এমন তথ্য সরকারি পর্যায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ সম্প্রতি নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন বাজারে ভারতের রপ্তানিপণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক বহাল রয়েছে। বর্তমানে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সূত্রে জানা যায়। এই প্রেক্ষাপটে ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে ভারতের অংশগ্রহণ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘বোর্ড অব পিস’ মূলত গাজা অঞ্চলের অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, বিনিয়োগ ও অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো তদারকি করবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে সংঘাত-পরবর্তী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার কাঠামো গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বোর্ডের কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারসহ শীর্ষ পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে বিশ্বব্যাংকের প্রধানসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বোর্ডের মাধ্যমে গাজার পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কানাডা সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। আর্জেন্টিনা সরকারও উদ্যোগটিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চল ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই ব্যাপক পরিসরে দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের জন্য একই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে গাজা সংকটসহ মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিক উদ্যোগের কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা যায়, তা এই ‘বোর্ড অব পিস’ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।


