রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বলেন, অতীতে যারা বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করেননি, তারা বর্তমান সময়ে দেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সভাটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটাচ্ছে। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে এই অপশক্তিগুলোর প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বা যারা একসময় বাংলাদেশের সার্বভৌমতা স্বীকার করেননি, তারা বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নানামুখী চক্রান্ত করছে।
বিএনপি মহাসচিব আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা নির্ধারণ করবে। নির্বাচনের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে যে, বাংলাদেশ উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হবে নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির প্রভাবের মধ্যে থাকবে।
তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে নির্বাচনের গুরুত্বকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সভায় বিএনপির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থেকে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করেন।
বক্তৃতা ও আলোচনায় দলের পক্ষ থেকে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিএনপির নেতারা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও ন্যায়সংগতভাবে ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় দলের নেতারা জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণে বিএনপির ভূমিকার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সংবিধানিক নিয়মের মধ্যে সম্পন্ন হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও জনগণের বিশ্বাস পুনঃস্থাপন সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএনপির এই বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের অবস্থান ও আসন্ন নির্বাচনে কৌশলগত লক্ষ্য প্রকাশের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ।


