যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নীতি ইউরোপে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টির কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নীতি ইউরোপে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টির কারণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান ইউরোপজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে না এলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে এ ইস্যুতে বাধা দেওয়ায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ব্যক্তিগত বার্তায় তাকে পরিস্থিতি বোঝানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ট্রাম্প সেই বার্তাগুলো নিজের সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা কূটনীতিক মহলে বিস্ময় ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ১৯ জানুয়ারি একটি ব্যক্তিগত বার্তা ট্রাম্পকে পাঠান, যা ট্রাম্প তার সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করেন। বার্তায় ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেছেন, সিরিয়া ও ইরান ইস্যুতে তারা সঠিক পথে আছেন, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ট্রাম্পের অবস্থান বোঝা যাচ্ছে না। ম্যাক্রোঁ প্রস্তাব করেছেন, ডাভোস অর্থনৈতিক সম্মেলনের পর প্যারিসে একটি জি-৭ বৈঠক আয়োজন করা এবং ডিনারের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা চালানো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা প্রকাশের ফলে ম্যাক্রোঁ বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন, কারণ এতে তার ব্যক্তিগত সংশয় প্রকাশ পেয়েছে, যা তিনি প্রকাশ্যে প্রকাশ করেননি।

এরপর, ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টের পাঠানো আরেকটি ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করেন। রুট্টে বার্তায় ট্রাম্পের সিরিয়া, গাজা ও ইউক্রেন নীতি প্রশংসা করেন এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানান। সাবেক ন্যাটো মুখপাত্ররা বলছেন, রুট্টের বার্তাটি প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করা কূটনৈতিক রীতির বাইরে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই ঘটনা উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিতে গোপনীয়তার দ্রুত ক্ষয় ও সামাজিকমাধ্যমের প্রভাবের প্রতিফলন। আগে যেখানে ব্যক্তিগত বার্তা নিছক আড়ালের আলোচনার অংশ ছিল, এখন সেগুলো প্রকাশ্যে আসার কারণে ‘মেগাফোন কূটনীতি’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সংকটকালে গোপন ও দ্রুত সমাধানের সুযোগ সংকুচিত হয়।

সব মিলিয়ে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু কেবল ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন নয়; এটি বিশ্ব কূটনীতির ধরণ পরিবর্তনের একটি সূচক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ