রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটের বিরাইমপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি সিলেট নগরীর বিরাইমপুরে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)—এই দুই মাজার জিয়ারত শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রচারণা কার্যক্রম এখান থেকেই শুরু করা হলো। তিনি দলের কর্মসূচির জন্য সবার দোয়া কামনা করেন এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের নারী, কৃষি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নসংক্রান্ত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে এসব খাতকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশার কথা বলেন। দলীয় সূত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনা করবেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে একটি নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে বিএনপির সিলেট মহানগর শাখা জানিয়েছে। এই সমাবেশকে সামনে রেখে মাঠ প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দলীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এর আগে বুধবার রাতে তারেক রহমান সিলেটে আগমনের পর ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৮টার দিকে তারেক রহমান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মাজার জিয়ারতে যান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট অঞ্চল বিএনপির ঐতিহ্যগত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখান থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর মধ্য দিয়ে দলটি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চাচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্থান জিয়ারতের মাধ্যমে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবহে নির্বাচনি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশলও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচনি তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাতেও বিস্তৃত হবে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। নির্বাচনকালীন কর্মসূচি, জনসভা ও সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরাই এ প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


