নরসিংদী-২ ও নরসিংদী-৩ আসনে দশ দলীয় জোটের ভেতরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ

নরসিংদী-২ ও নরসিংদী-৩ আসনে দশ দলীয় জোটের ভেতরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ

রাজনীতি ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নরসিংদী-২ আসনে এনসিপিকে মনোনীত আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে আমজাদ হোসাইনের বাসার বাইরে তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে বাসার গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন। কর্মীদের অবস্থানের কারণে তিনি বাসা থেকে বের হতে পারেননি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার কারণে জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

একই পরিস্থিতি নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনেও দেখা গেছে। এখানে দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হলেও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জোট প্রার্থী সারোয়ার তুষার এ ঘটনা ‘পরিকল্পিত নাটক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। পলাশ আসনে জামায়াতের প্রতীক ব্যালটে না আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, দলীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আমজাদ হোসাইন তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন। এছাড়া তার কর্মী ও সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটনা করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, এ অবস্থাতেও তার দল সর্বোচ্চ সহনশীল আচরণ করেছে। তিনি জোটের ভেতরের ঐক্য নিশ্চিত করা এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা আশা করেছেন।

নরসিংদী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুসলেহুদ্দিন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিতেই অটুট রয়েছে। তিনি জানান, যাকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে, তিনিই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং মার্কা তোলার জন্য আলাদা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নরসিংদী-২ ও নরসিংদী-৩ আসনে এই ধরনের মনোনয়ন প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিতর্ক জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও দলীয় শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস ও ভোটারের মনোভাবের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্ব বহন করে। জোটের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বা দ্বন্দ্ব ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সমন্বিত প্রার্থিতা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাহার সম্পর্কিত এই ধরনের ঘটনা সাধারণত ভোটারদের ভোটচয়ন প্রভাবিত করার পাশাপাশি জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও ক্ষমতা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দশ দলীয় জোটের মতো বড় জোটে একক প্রার্থীর আচরণ সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে এবং নির্বাচন কমিশনের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ