পাকিস্তানে নতুন তেল-গ্যাস আবিষ্কার, দেশীয় উৎপাদন বাড়াবে

পাকিস্তানে নতুন তেল-গ্যাস আবিষ্কার, দেশীয় উৎপাদন বাড়াবে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ওজিডিসিএল) নতুন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের কূপ আবিষ্কার করেছে। বারাগজাই এলাকায় অবস্থিত অনুসন্ধানী কূপ বারাগজাই এক্স-০১ (স্ল্যান্ট) থেকে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ১০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৮.১৫ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি) প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ওজিডিসিএলের এক নোটিশ অনুযায়ী, সামানা সুক ও শিনাওয়ারি গঠনে পরিচালিত সফল কেসড হোল ড্রিল স্টেম টেস্ট-০৩–এর পর এই আবিষ্কার নিশ্চিত হয়েছে। একই কূপে চলতি মাসে এটি তৃতীয় তেল-গ্যাস আবিষ্কার হিসেবে ধরা পড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ডাটা ফরমেশন থেকে একটি আবিষ্কার করা হয় এবং এর আগে গত মাসে প্রথম আবিষ্কারের ঘোষণা করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন কূপের আবিষ্কার দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং পাকিস্তানের হাইড্রোকার্বন মজুত বৃদ্ধি করবে। এক মাসের মধ্যে বারাগজাই কূপ থেকে পাওয়া তিনটি আবিষ্কারের যৌক্তিক উৎপাদন একত্রিত করলে দৈনিক প্রায় ৯ হাজার ৪৮০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের বর্তমান দৈনিক দেশীয় তেল উৎপাদনের প্রায় ১৪.৫ শতাংশ।

পাকিস্তান সরকার গত বছর তিনটি অফশোর ও দুটি অনশোর ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এসব প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে মারি এনার্জিস, ওজিডিসিএল, পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, ফাতিমা পেট্রোলিয়াম, গভর্নমেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড এবং তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও)।

এছাড়া, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান সরকার ৪০টি অফশোর ব্লক নিলামে তোলার পর চারটি কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ২৩টি দরপত্র পাওয়া যায়। এই কনসোর্টিয়ামগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে প্রায় ৮ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিলামের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে এই বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন আবিষ্কার পাকিস্তানের জ্বালানি নিরাপত্তা ও দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে তেলের জন্য বিদেশী উৎসের উপর নির্ভরশীল। ওজিডিসিএলের সাম্প্রতিক আবিষ্কার দেশের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।

এছাড়া, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অবস্থিত বারাগজাই কূপে এই ধরণের তেল-গ্যাস খনির ধারাবাহিক আবিষ্কার স্থানীয় অর্থনীতি ও শ্রমবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন কূপ থেকে উৎপাদিত তেল ও গ্যাস স্থানীয় শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রফতানি সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারে।

ওজিডিসিএল জানিয়েছে, তারা এই আবিষ্কারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে অনুসন্ধানী কূপগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ও দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধরনের পদক্ষেপ সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

প্রসঙ্গত, দেশটির তেল ও গ্যাস খাত বর্তমানে বিদেশী জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হলেও সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে, যা সামগ্রিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ