পাকিস্তান গাজা শান্তি বোর্ডে যোগদানের সিদ্ধান্ত

পাকিস্তান গাজা শান্তি বোর্ডে যোগদানের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তান বুধবার গাজায় স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ডে’ যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি গাজায় শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টার অংশ।

‘শান্তি বোর্ড’ গঠন সম্পর্কে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিজেই থাকবেন ট্রাম্প এবং এই দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হলেও পালন করা যাবে। বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্য অন্তত এক বিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে হবে। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এই বোর্ডে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও রয়েছেন।

বিবৃতিতে পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘শান্তি বোর্ড’ প্রতিষ্ঠার ফলে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড পুনর্গঠনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ প্রসারিত হবে। ইসলামাবাদ আশা করছে, এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত হবে।

পাকিস্তানের ধারণা অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরীফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পাকিস্তান ‘শান্তি বোর্ডের’ মাধ্যমে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা লাঘবে এবং লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সহায়তা করবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। পাকিস্তানের যোগদান এই বোর্ডে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও তদারকিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ফিলিস্তিনি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করতে পারে।

এছাড়া, গাজায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রদের আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বোর্ডের মাধ্যমে প্রণীত নীতি ও তহবিল ব্যবস্থা ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো নিশ্চিত করবে।

পাকিস্তানের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স্তরে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বীকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সমাধানের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশও এ ধরনের শান্তি উদ্যোগে সমর্থন জানিয়ে আসছে।

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে মূল লক্ষ্য ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ