বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে মাঠে সরব তারেক রহমান

বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে মাঠে সরব তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারের প্রথম দিনেই বিএনপি তার নির্বাচনি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান একের পর এক জনসমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিলেট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন।

বুধবার রাজধানীর গুলশান–২–এ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, নির্বাচনের প্রথম দিনে তারেক রহমান সিলেটসহ মোট সাতটি জেলায় সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। এই জেলাগুলো হলো সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জ।

মাহদী আমিন বলেন, বুধবার রাতেই বিমানে সিলেট পৌঁছাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সফর শুরু করবেন। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে এবং হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে তারেক রহমানের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

দুপুরের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল মাঠে এবং বিকেলে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। নরসিংদী পৌর পার্কসংলগ্ন এলাকায়ও একটি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার বা রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আরও একটি সমাবেশে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবগুলো জেলায় নির্বাচনি কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে কয়েকটি সফরসূচি পূর্বে বাতিল করা হয়েছিল। কারণ, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং তারেক রহমানের নানির কবর জিয়ারতসহ কিছু কর্মসূচিতে সম্ভাব্য ব্যাপক জনসমাগমকে বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তাঁর সফরে পর্যায়ক্রমে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের যুক্ত করা হচ্ছে। সিলেট সফরে তার সঙ্গে থাকবেন আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ একাধিক তরুণ নেতা।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত এসব জনসমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনি মাঠে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করতে চাচ্ছে। এই কার্যক্রম দলের জন্য সমন্বিত প্রচার এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রারম্ভিক সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি জনসমাবেশগুলো দলের ভোটার ভিত্তি সক্রিয়করণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন সমাবেশগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনী সমস্যা, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিএনপি এই সফরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিত প্রচার কার্যক্রম চালানোর মাধ্যমে নির্বাচনি উপস্থিতি দৃঢ় করতে পরিকল্পনা করছে। সিলেট থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সফরের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই নয়, স্থানীয় নেতৃত্বের কার্যক্রমকে সামনে আনা এবং রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃঢ় করা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ