ঢাকা-১৭, ১৫, ১১ ও ১৩ আসনে চার দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ঢাকা-১৭, ১৫, ১১ ও ১৩ আসনে চার দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এবার ঢাকার চারটি আসনে চারটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ নজর কাড়ছে। ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৩ আসনে যথাক্রমে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ভোটযুদ্ধে নামেছেন।

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। এর আগে একই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তারেক রহমানের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর পার্থ ভোলা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। এই আসনে তারেক রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। স্থানীয় নেতাকর্মীরা উভয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এবার তিনি নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন। গত কয়েক বছর ধরে ডা. শফিকুর রহমান এলাকায় নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শুরুতে প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ার পর জামায়াতের স্থানীয় জনশক্তি নাহিদ ইসলামের পক্ষে কাজ করছে। এই আসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. এম এ কাইয়ুম।

ঢাকা-১৩ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন করছেন। এ আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে তাঁর পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনডিএম-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, যিনি প্রতীক বিধিমালা অনুসারে নিজের দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

ঢাকার আসনে বড় দলগুলোর প্রধানদের জয়-পরাজয়ের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জয়ী হন। ২০১৮ সালে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি জোটের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানদের জয় বা পরাজয়কে প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে দেখা হয়। অতীতে এই আসনগুলো থেকে বড় দলগুলোর নেতাদের হার-জয়ের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান এবং ইমেজের ওপর প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফলে আঞ্চলিক সমীকরণ ও জনসমর্থনের প্রভাব বড় ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, এবার চারটি আসনে একযোগে প্রধানদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের ফলাফলকে আরও প্রভাবশালী ও আলোচিত করবে।

সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এই চারটি আসনে দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে নজর রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই আসনগুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফল দলগুলোর নীতি-নির্ধারণ এবং আগামী নির্বাচন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ