পল্টনে স্কুল শিশু নির্যাতন: অ্যাডমিন অফিসার গ্রেপ্তার, রিমান্ড শুনানি ২৭ জানুয়ারি

পল্টনে স্কুল শিশু নির্যাতন: অ্যাডমিন অফিসার গ্রেপ্তার, রিমান্ড শুনানি ২৭ জানুয়ারি

আইন আদালত ডেস্ক

রাজধানীর পল্টনের একটি বেসরকারি স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ‘শারমিন একাডেমি’র অ্যাডমিন অফিসার পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন। এর আগে ভোরে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে পুলিশ পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. নুর ইসলাম আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি গ্রেপ্তারসহ মূল রহস্য উদঘাটন, আসামিদের সঠিক নাম ও ঠিকানা যাচাই, এই ধরনের অপরাধ অন্য কোনো শিশুর সঙ্গে ঘটেছে কি না তা জানা এবং নির্যাতনের কারণ উদ্ঘাটনের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

তবে শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ডের জন্য ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন। কক্ষে প্রবেশের সময় শিশুটিকে ধমক দিয়ে চড় মেরেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি কক্ষে বসে থাকা আরেকজন ব্যক্তির সঙ্গে কিছু বলতে চেষ্টা করছে। পরে নারী শিশুটিকে সোফায় বসিয়ে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছেন। একই কক্ষে থাকা পুরুষ ব্যক্তি একটি স্ট্যাপলার হাতে শিশুর কাছে এগিয়ে গিয়ে মুখে স্ট্যাপল দেওয়ার ভান করেছেন। এরপর তিনি কয়েকবার শিশুর প্রতি হাতের ইশারা করে থামার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটিকে সোফায় চেপে ধরেন।

ভিডিওতে ঘটনা ধরা পড়েছে ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ড। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তারা অভিযুক্তদের শাস্তি এবং স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন।

শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌস বুধবার পল্টন মডেল থানায় পবিত্র কুমার বড়ুয়া ও তার স্ত্রী এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের নামে মামলা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং ভিডিওতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রের মতে, শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি ও অভিভাবকদের জাগরুকতা অপরিহার্য। সরকার শিশু অধিকার সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আদালত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ