জাতীয় ডেস্ক
সারাদেশে চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ৭ দিনে যৌথ বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে ২৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। ১৬ থেকে ২২ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীন ইউনিটসমূহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং চোরাকারবারি রয়েছে।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের ৮২২টি গোলাবারুদ, ৭টি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টহল এবং নিরাপত্তা অভিযান চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চলে উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী বিশেষ দায়িত্ব পালন করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাধারণ জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তা অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ধরনের যৌথ অভিযান পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে গণহিত, অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এই কার্যক্রম সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান ও টহল চালানোর ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গ্যাং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, মাদক সরবরাহ চক্র প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সীমিত করা সম্ভব হচ্ছে। আইএসপিআর জানাচ্ছে, ভবিষ্যতেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।


