রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দিনব্যাপী গণসংযোগ ও মতবিনিময় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উপজেলার কুটি ইউনিয়নের রানীয়ারা, বিষ্ণুপুর, মাইজখারসহ বিভিন্ন গ্রামে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে পরিবারের কর্তা, নারী সদস্য, অভিভাবক এবং কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের উদ্দেশ্য, কাঠামো এবং সম্ভাব্য সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই গণসংযোগের মূল লক্ষ্য ছিল প্রস্তাবিত দুটি কার্ডের ধারণা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা এবং তাদের মতামত জানা।
মতবিনিময় সভায় কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিএনপির সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষি খাত পুনর্গঠনের পরিকল্পনার অংশ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ অগ্রাধিকার সুবিধা পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনের ব্যয় কমানো এবং কৃষকদের জন্য প্রণোদনা কার্যক্রম সহজ করার লক্ষ্যে এই কার্ডের ধারণা দেওয়া হয়েছে। তার ব্যাখ্যায়, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিযুক্ত সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ প্রাপ্তি সহজ হতে পারে, পাশাপাশি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষকরা উৎপাদন পর্যায় থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সহায়তা পেতে পারেন।
কবীর আহমেদ ভূঁইয়া আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও পরিবারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এসব খাতকে টেকসই করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
গণসংযোগকালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, বিএনপি উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তাব দিচ্ছে এবং এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি দলীয় রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কার্যক্রম জোরদারের কথা বলেন।
স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। কৃষকরা জানান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারমূল্যের অনিশ্চয়তার কারণে তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। তাদের মতে, কৃষক কার্ডের মতো একটি কাঠামোবদ্ধ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক তথ্য ও সেবা সমন্বয় করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কসবা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের গণসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করে প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলো আরও বাস্তবসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা জানান।


