ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারে উৎসবমুখরতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারে উৎসবমুখরতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত দুই দিনে পূর্ণগতি পেয়েছে। প্রচার শুরু হবার পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক জনস্রোত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান রাজনৈতিক দল ও তাদের মনোনীত প্রার্থী, পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচনী প্রচারের তীব্রতা তত বাড়ছে এবং প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন।

নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। প্রচারের সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এবারে প্রার্থীরা পোস্টার ব্যবহার করতে পারছেন না। জনসভা বা সমাবেশের ক্ষেত্রে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো আবশ্যক। নির্বাচনী প্রচারকে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে এসব বিধি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

প্রচার কার্যক্রমের প্রথম দিনেই প্রধান রাজনৈতিক নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। প্রথম দিনে তিনি সাতটি জেলায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। সফরের সময় হযরত শাহজালাল ও শাহ পরাণের মাজার জিয়ারতসহ স্থানীয় জনসংগঠন এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়াও তারেক রহমান ঢাকার বাইরে ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ এবং বগুড়াসহ একাধিক জেলায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

একইভাবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকার মিরপুর থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। প্রথম দিনে তিনি ১০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর উত্তরবঙ্গ সফরে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভিন্ন জেলায় মাজার জিয়ারত, শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং স্থানীয় জনসংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রচার কার্যক্রমের সময় কিছু সংঘর্ষ ও বাগযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। কিছু নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে নির্বাচনী মাঠের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তারা মনে করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে বক্তব্যের পার্থক্য এবং পরোক্ষ সমালোচনা রাজনৈতিক প্রচারের অংশ এবং এটি বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারের এই উচ্ছ্বাস ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একসাথে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটগ্রহণ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, প্রার্থীদের সুষ্ঠু প্রচারের ফলে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

প্রচার কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থী দলীয় প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে তৎপর থাকলেও গণভোটের জন্য প্রচার তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, নির্বাচনী প্রচারে গণভোটের বিষয় উপেক্ষা করা হলে তরুণ ভোটারদের আগ্রহ কমতে পারে।

সর্বোপরি, নির্বাচনী মাঠে জনস্রোত, প্রার্থীদের সরাসরি ভোটপ্রার্থনা, রাজনৈতিক সমালোচনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতিপূর্ণ জনসভা নির্বাচন পর্যন্ত চলবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ