নির্বাচনি প্রচারে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

নির্বাচনি প্রচারে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রচার কার্যক্রম শুরু হলেও প্রথম দিকেই একাধিক সহিংস ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচনি পরিবেশকে ভয়ভীতিমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরপরই রাজধানীসহ কয়েকটি এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রচারের প্রথম দিনেই বিএনপির এক নেতাকে গুলি করার ঘটনা এবং জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর প্রচার অনুষ্ঠানে অস্ত্রসহ দুজনকে আটকের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ঘটনার পর বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দলটি বরাবরই অবস্থান নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো যেন ভয়ভীতিমুক্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ এনায়েত উল্লাহকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলে দলটি। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির এক বিবৃতিতে বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, অতীতের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা নির্বাচনি পরিবেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

জামায়াত প্রার্থী হাফেজ এনায়েত উল্লাহের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনি সমাবেশ চলাকালে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে ঘোরাফেরা করছিল। পরে দেহরক্ষীদের সহায়তায় দুজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আরেকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি অস্ত্রসহ পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। আটক দুজনকে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার পর ওই রাতে চকবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

নির্বাচনি প্রচারে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টিও। দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সহিংস ঘটনার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, নির্বাচনি সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তায়, কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রার্থীরা যেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেখানে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপিও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে সহিংস হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়েই এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটলে সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনে এসব উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ