রাজনীতি ডেস্ক
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং হাইপার প্রোপাগান্ডার অংশ। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রিজভী আরও জানান, ওয়ান ইলেভেনের ঘটনা এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে আরাফাত রহমান মারা গেছেন। তিনি কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানান এবং তার স্মরণে বক্তব্য রাখেন।
রিজভী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তারেক রহমান পূর্বেই নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করেছিলেন। পরে তিনি কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এর আগে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিটিং শেষে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময়সীমা রাত ৮টা পর্যন্ত থাকলেও তারেক রহমান মধ্যরাত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালিয়েছেন।’
আসিফ মাহমুদ আরও জানান, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে এর ফলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে। এছাড়া, দেশের মিডিয়া একটি দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে, যা একটি বড় ধরনের শঙ্কার বিষয়।’
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার এই বিতর্ক নির্বাচনী পরিবেশ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনে প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আচরণবিধি পালন করা জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্ব ও নির্বাচনের স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা এবং অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগের এই পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রচারণার স্বাভাবিক অংশ হলেও, কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে কমিশন এ ধরনের অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান করে ফলাফল প্রকাশ করবেন।


