রাজনীতি ডেস্ক
গাইবান্ধা: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ১০ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তৃতায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নদী সম্পদ সংরক্ষণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছেন, কোনো বাহ্যিক হুমকি বা দেশের ওপর নজরদারিকে তারা সহ্য করবে না এবং কারো প্রভাব বা চাপের ভয়ে নিজেদের নীতি পরিবর্তন করবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কারো লাল চোখকে ভয় করি না। আমরা কারো ওপর খবরদারি করতে চাই না। আবার আমাদের দেশের ওপর কেউ খবরদারি করুক, সেটাও সহ্য করব না।” তার বক্তব্যে দেশীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।
তিনি উত্তরাঞ্চলের নদীর অবনতি এবং বন্যা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। আপনাদের সমর্থনে আল্লাহর রহমতে সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। নদীর জীবন ফিরে এলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনও ফিরবে।” এতে উল্লেখযোগ্য জলসম্পদ ও নদী পুনঃস্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি ও স্থানীয় জীবিকা উন্নয়নের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
জনসেবামূলক প্রতিশ্রুতির মধ্যে তিনি দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজি রোধের দিকে নজর দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে ভাতা দেব না, কাজ দেব। আপনাদেরও কাজ দেব। আমরা আপনাদের সম্পদে পরিণত করতে চাই।” ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সেবা প্রসারিত করার লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও মা ও শিশু নিরাপত্তার গুরুত্বেও তিনি আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। এই মাটিকে আমরা ভালোবাসি। এ কারণে শত জুলুমের পরও আমরা কোথাও চলে যাইনি। আল্লাহ সুযোগ দিলে আমরা আপনাদের সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই।”
সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। তিনি বলেন, “এই পাঁচজনকে আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে গেলাম। এই আমানত আপনারা আমাদের উপহার দেবেন।” উল্লেখযোগ্য, এ পাঁচটি আসনে সব প্রার্থীই জামায়াত মনোনীত, অন্য কোনো জোটভুক্ত দলের প্রার্থী নেই।
সভায় উপস্থিত সাধারণ জনগণ ও সমর্থকরা তার বক্তৃতা শোনার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন প্রকাশ করেন। গাইবান্ধা জেলার নদী পুনঃউন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক নীতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি জনসাধারণের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা ও আলোচনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে।
এ ধরনের জনসভা নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় সাধন এবং রাজনীতিক প্রার্থীদের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা জনগণের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।


