রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রাজধানীর গুলশানে তরুণদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকায় শনিবার) দুপুর ২টায় গুলশানের বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে এ সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণদের ভাবনা ও মতামত শোনার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন। তিনি বলেন, বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ আয়োজন করা হচ্ছে।
মাহাদী আমীন জানান, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তরুণদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি-নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিষয়ে তাদের ভাবনা ও প্রস্তাব শোনাই এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ আয়োজনে তারেক রহমানের পাশাপাশি তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় আগামীর রাষ্ট্র কাঠামো ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে এক মিনিট দৈর্ঘ্যের রিল ভিডিও তৈরি করতে বলা হয়েছিল। প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব বিষয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের প্রত্যাশা, সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে তরুণদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিএনপির তথ্যমতে, এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই হাজার তরুণ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের তৈরি ভিডিওগুলো জনমত ও বিচারকদের মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এর মধ্যে জনমতের ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ এবং জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৭০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত এই ১০ জন তরুণ তারেক রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
মাহাদী আমীন আরও জানান, নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করা এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ইলেকশন হটলাইন চালু করা হয়েছে। এ হটলাইনের মাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও নির্দেশিকা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটারদের অভিযোগ, পর্যবেক্ষণ এবং গঠনমূলক মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি টেলিফোন হটলাইন এবং একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু রয়েছে। শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়ের নাগরিকদের এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। দলের দাবি অনুযায়ী, হটলাইন চালুর পর বিভিন্ন এলাকা থেকে নাগরিকরা যোগাযোগ করেছেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত নানা বিষয়ে তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে মাহাদী আমীন বলেন, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে দলের কাছে অভিযোগ এসেছে। তিনি জানান, এসব কার্ড প্রদানের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণের প্রশ্ন নেই। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং নির্ধারিত উপকারভোগীদের মধ্যেই বিতরণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করে, তবে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দলীয় হটলাইনে অবহিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে নাগরিক অংশগ্রহণের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তরুণদের চিন্তা-ভাবনা ও প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে শোনার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা বাড়ানোই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।


