জামায়াতে ইসলামী সরে যাওয়ায় ১১ দলের নির্বাচনি জোট ১০ দলের মধ্যে সীমিত, লেবার পার্টি যোগদানের সম্ভাবনা

জামায়াতে ইসলামী সরে যাওয়ায় ১১ দলের নির্বাচনি জোট ১০ দলের মধ্যে সীমিত, লেবার পার্টি যোগদানের সম্ভাবনা

 

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট আপাতত ১০ দলে সংকুচিত হয়েছে। তবে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দুইদিনের মধ্যে এই ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সারা দেশে জনসভা আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী, জোটটি আবারও ১১ দলে সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনি আসন না নেওয়া শর্তে জামায়াতে ইসলামী জোটে বাংলাদেশ লেবার পার্টি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান শনিবার জানান, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। একই দিনে সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

লেবার পার্টির যোগদান প্রসঙ্গটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। পূর্বে দলটি বিএনপি জোটের অংশ ছিল। তবে এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোটের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় লেবার পার্টি তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবার পার্টির এই পদক্ষেপ নির্বাচনের আগে জোটের প্রভাব ও ভোট ভাগাভাগির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

দলের মধ্যে ও জোট পর্যায়ে সমন্বয় বাড়াতে এবং স্থানীয় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালী করতে জোটের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশের আয়োজন শুরু হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারে মূলত দলের প্রার্থীদের রাজনৈতিক লক্ষ্য, নাগরিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামী ও লেবার পার্টি নিয়ে এই পরিবর্তন নির্বাচনী সমীকরণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে এই দলগুলো প্রভাবশালী, সেখানে ভোটারের মনোভাব ও সমর্থনের ধারা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া জোটের বহুজাতিক প্রার্থীর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নির্বাচনকালীন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

এর ফলে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোট ভাগাভাগির চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের জোট পরিবর্তন দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান এবং ভোটব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জোটের বিস্তার, নতুন সদস্য যোগদান এবং প্রচার কার্যক্রমের ধরন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিবর্তন ভোটারদের মনোভাব, ভোটের ফলাফল এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক শক্তি সমীকরণে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ