আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বেলজিয়াম বৃহস্পতিবার থেকে ইসরাইলের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী বিমানগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরাইলের সামরিক পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করা হবে এবং বিমান সংক্রান্ত সকল তথ্য পূর্বেই বেলজিয়ামের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোটের নেতৃত্বে নেওয়া এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইসরাইলের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত পরিদর্শন কার্যক্রম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস মোবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (এসপিএফ ট্রান্সপোর্ট) দ্বারা পরিচালিত হবে।
বেলজিয়ামের অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স আঞ্চলিক সরকারের অধীনে থাকা সত্ত্বেও, অস্ত্র পরিবহন এবং ট্রানজিট সংক্রান্ত কার্যক্রম ফেডারেল সরকারের তত্ত্বাবধানে চলে। ফলে ফেডারেল সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা আঞ্চলিক রপ্তানি লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও কার্যকরভাবে ট্রানজিট কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে।
এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এমন সময়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলমান সংঘর্ষে ফিলিস্তিনে ৭১,০০০-এর বেশি লোক নিহত এবং ১,৭১,০০০-এর বেশি আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু, এবং গাজার প্রায় ৯০% বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল আরও ৪৮৩ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং ১,২৮৭ জনকে আহত করেছে। সংঘর্ষের পাশাপাশি গাজার মধ্যে খাদ্য, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলস্বরূপ প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেলজিয়ামের এই পদক্ষেপ সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন রোধে আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং হিউম্যানিটারিয়ান দায়িত্বের দিকে একটি নজর দেওয়ার প্রতিফলন। এছাড়া, এটি ইসরাইল ও ইউরোপের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও, ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক ও যাত্রী বিমানের চলাচলে সম্ভাব্য বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেলজিয়ামের এই পদক্ষেপ অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা অস্ত্র পরিবহন এবং ট্রানজিট নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রভাব ফেলতে পারে।
বেলজিয়ামের এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে মানবিক অবস্থার ওপর মনোযোগ আকর্ষণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


