রাজনীতি ডেস্ক
কিশোরগঞ্জে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো এবং মসজিদের খুতবায় এ বিষয়ে বয়ান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম মোল্লা। শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে আয়োজিত জেলা ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা অংশ নেন।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি সনদ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার বৈধতা নিশ্চিত করতে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে রাষ্ট্র আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি সংস্কার প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘোষিত তফসিলে বর্ণিত ৩০টি বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘জুলাই সনদে’ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই সনদের বিষয়ে জনগণের মতামত জানার জন্য গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ফলে ভোটাররা উভয় বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ইমামদের উদ্দেশে বলেন, সমাজে ধর্মীয় নেতাদের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, গণভোটের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মসজিদের খুতবায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান, যাতে মুসল্লিরা গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সচেতনতা তৈরিতে ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব রয়েছে। এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে ইমামদের বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ে অবহিত করা হয়, যাতে তারা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ভূমিকা রাখতে পারেন।
ইমাম সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিম খান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত শতাধিক ইমাম এ সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইমামদের সামনে গণভোটের প্রেক্ষাপট, প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গণভোটের আয়োজনকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির বিষয়েও সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কার, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ও আহ্বান স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।


