রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন ও কর্মসংস্থান নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে কোনো দেশের আধিপত্য বা প্রভুত্ব মেনে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণের আস্থা ও আমানত রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, দলটি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার করা হবে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটি চাঁদাবাজি ও অবৈধ আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের কোথাও এ ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।
দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে বিদ্যমান অনিয়ম ও অপরাধ নির্মূলে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সংশ্লিষ্টদের স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবিকার পথেও যুক্ত করার কথা বলেন তিনি। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির সাংবাদিকদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে সত্য তুলে ধরতে হবে এবং রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সঠিক ও ভুলকে স্পষ্টভাবে আলাদা করে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তার মতে, গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা দেশের সুশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বেকার ভাতা নির্ভর ব্যবস্থা নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মমুখী করে তোলার পক্ষে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশে বা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মর্যাদা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তির মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। এতে করে বেকারত্ব কমবে এবং তরুণরা দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এ ধরনের ব্যবস্থাকে তিনি একটি ‘মর্যাদার বাংলাদেশ’ গঠনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল ও হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গণভোটে সমর্থন জানানোর কথাও বলেন জামায়াত আমির। তিনি মনে করেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সমাজ থেকে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে শেরপুর-ধুনট আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, নীতিগত অঙ্গীকার ও কর্মসূচি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বলে উপস্থিতদের ধারণা।


