ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী সমতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী সমতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেন রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী মাঠে সমতা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি ও আর্থিক সক্ষমতার কারণে নির্বাচনী পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং এতে ভোটের ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সঙ্গে হওয়ায় নির্বাচনপূর্ব সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠে তার পক্ষে জনসমর্থনের প্রবণতা দেখা যাওয়ায় প্রতিপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ অবস্থায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হতে পারে।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অবৈধ অর্থের প্রভাব দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো উপায়ে জয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা করে—এমন অভিযোগ অতীতেও বিভিন্ন নির্বাচনে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি নিজের নির্বাচনী কার্যক্রমে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি দাবি করেন, উঠান বৈঠকের মতো সীমিত পরিসরের কর্মসূচির কারণে তাকে একাধিকবার জরিমানা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত জরিমানার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বড় পরিসরে সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা চালানো হলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সভা করেছে এবং ভোট চেয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় কর্মসূচির নামে তার বিরুদ্ধে কটূক্তি ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। এসব ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে তার বক্তব্য।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রচারণা বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে মাঠপর্যায়ে এসব বিধি সমভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না—তা নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে। রুমিন ফারহানার বক্তব্য সেই অভিযোগগুলোকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য যে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তা পাননি। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই আসনে বিএনপি তাদের জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আসনটি ছেড়ে দেয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এখানে অতীতে দলীয় ও জোটভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র ছিল। বর্তমান নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং দলীয় সমর্থনের বিভাজন ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা, আচরণবিধির সঠিক প্রয়োগ এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ