খেলাধূলা ডেস্ক
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তাঁর মতে, এই ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন জানানো হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানও এতে উপকৃত হবে।
রানা সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান যদি এ অবস্থানে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপ বর্জনের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট আর্থিকভাবে কিছু ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তবে সেই ক্ষতি সহনীয় এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভের তুলনায় তা বড় নয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, এ ধরনের সমর্থন সেই ব্যবধান কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া গেলে দুই দেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রও বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
রানা সানাউল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের অবস্থান হওয়া উচিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পক্ষে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের পক্ষে নয়। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংহতি প্রকাশ করলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ভিত্তি দেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ দল ভারতে পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করায় আইসিসি এই পরিবর্তন আনে। এর ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ ও সূচিতে পরিবর্তন এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট দল ও আয়োজকদের নতুন করে প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করছে।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি জানান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারী নির্দেশনার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই সরকার প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি প্রায়ই ক্রীড়া আসরে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সমর্থন আঞ্চলিক ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ক্রিকেটবিশ্বে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ধারাবাহিক উন্নতি দেখিয়েছে। তাদের না থাকায় একদিকে যেমন ভক্তদের আগ্রহে প্রভাব পড়তে পারে, অন্যদিকে নতুন সুযোগ পাবে স্কটল্যান্ডের মতো দল।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো কেবল একটি ক্রীড়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং ক্রীড়া কূটনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পাকিস্তানের সম্ভাব্য অবস্থান এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা এখন সময়ই নির্ধারণ করবে।


