মহারাষ্ট্র হজ কমিটির প্রধান পদে অমুসলিম কর্মকর্তার নিয়োগে বিতর্ক, আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

মহারাষ্ট্র হজ কমিটির প্রধান পদে অমুসলিম কর্মকর্তার নিয়োগে বিতর্ক, আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে হজ ব্যবস্থাপনা সংস্থার শীর্ষ পদে একজন অমুসলিম সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৪ জানুয়ারি মনোজ যাদভ নামের এক সরকারি কর্মকর্তাকে মহারাষ্ট্র হজ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। হজ পালনের মতো ধর্মীয় কার্যক্রম তদারককারী একটি সংস্থার নেতৃত্বে অমুসলিম কর্মকর্তার নিয়োগে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে আপত্তি উঠেছে।

মহারাষ্ট্র হজ কমিটি রাজ্যের মুসলমানদের হজযাত্রা সংক্রান্ত নিবন্ধন, কোটা ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনসহ প্রশাসনিক ও সমন্বয়মূলক কাজ পরিচালনা করে। এ কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে হজ ব্যবস্থাপনার নীতিগত যোগাযোগও রক্ষা করা হয়। ফলে কমিটির নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

নিয়োগের পরপরই ভারতীয় মুসলমানদের পারিবারিক আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা এই নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করবে। তাদের মতে, হজের মতো সরাসরি ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্থার নেতৃত্বে এমন নিয়োগ আইনগত ও প্রথাগত দিক থেকে প্রশ্ন তুলতে পারে।

মহারাষ্ট্রের মুসলিম সমাজের বিভিন্ন নেতা ও সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, হজ একটি ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং এর ব্যবস্থাপনায় ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও অভ্যন্তরীণ প্রথার বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান প্রয়োজন। এ কারণে কমিটির প্রধান হিসেবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দেওয়াই দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ছিল বলে তারা উল্লেখ করছেন।

এ ইস্যুতে রাজ্যের মুসলিম নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, হজ ব্যবস্থাপনার মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে এমন নিয়োগ সিদ্ধান্ত আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ আরও জোরালো হতে পারে।

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, মনোজ যাদভ একজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং তার নিয়োগ প্রশাসনিক সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হজ কমিটি একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং এর কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালতে গেলে সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং প্রশাসনিক নিয়োগের নীতিমালার ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ভারতের সংবিধানে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার নীতি থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে বিভিন্ন সময়ে ব্যাখ্যাগত বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে মহারাষ্ট্রে হজযাত্রার প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে কমিটির গঠন ও নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং আইনি ব্যাখ্যার সংযোগস্থলে অবস্থান করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ