সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের শিরোপা জয়, প্রধান উপদেষ্টার বার্তা

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের শিরোপা জয়, প্রধান উপদেষ্টার বার্তা


খেলাধূলা ডেস্ক

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার অংশ নিয়ে শিরোপা জয়ের পর বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলের সাফল্যকে স্বীকৃতি জানিয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে মালদ্বীপকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের দলের পারফরম্যান্স দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর ভাষায়, টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক ও সংগঠিত খেলায় শিরোপা অর্জন নারী ক্রীড়াবিদদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির প্রতিফলন। তিনি বিজয়ী দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই অর্জনের মাধ্যমে দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ ও অগ্রগতি সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের সাফল্য ভবিষ্যতে খেলাধুলায় অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে এবং দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার দিকটি নতুন করে সামনে আনবে।

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নারীদের জন্য প্রথম পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ফুটসাল টুর্নামেন্ট। এতে অংশ নেয় বাংলাদেশ, মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশের দল। ব্যাংককে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল আক্রমণাত্মক ও সংগঠিত ফুটসালের পরিচয় দেয়। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই দলটি গোলসংখ্যা ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে এগিয়ে ছিল।

টুর্নামেন্টের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ দল মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে। ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা শুরু থেকেই বলের দখল রেখে আক্রমণ চালান এবং প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যান। দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি।

ফুটসাল বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক নতুন একটি প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া শাখা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ফুটসালের আয়োজন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়কে সংশ্লিষ্টরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সাফল্য ভবিষ্যতে নারী ফুটসালকে আরও সংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ, বয়সভিত্তিক দল গঠন এবং প্রশিক্ষণ কাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও এ অর্জনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বার্তায় ভবিষ্যতে নারী ক্রীড়াবিদদের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করা হয়। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের এই শিরোপা জয় দেশের নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাকে আরও বিস্তৃত করল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটসালে বাংলাদেশের উপস্থিতি জোরালো করার ক্ষেত্রে এই অর্জন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ