রাজনীতি ডেস্ক
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট বাজার এলাকায় মুফতি রায়হান জামিলের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল দশটার দিকে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা কাফনের কাপড় পরিধান করে নির্বাচনি প্রচারণা চালান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নির্বাচনি পরিবেশে হুমকি, ভয়ভীতি ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
মুফতি রায়হান জামিল জানান, নির্বাচনি প্রচারণার সময় হুমকি ও গালাগালি জনগণের ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থি। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা উপেক্ষা করেই তারা জনগণের অধিকার রক্ষায় মাঠে থাকবেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ এখনও দায়ের করেননি। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুফতি রায়হান জামিল দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ এলাকার বিভিন্ন সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচিত। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ১০ টাকায় ইলিশ মাছ বিতরণ করেন। এরপর ৩০ নভেম্বর এক কেজি গরুর মাংস ১ টাকায় এবং ১১ জুলাই এক কেজি চাল ২ টাকায় বিতরণের উদ্যোগ নেন। এছাড়া নির্বাচনি গেট ও ব্যানার ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে মিছিল করা এবং গভীর রাতে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চালের বস্তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হুমকি ও বাধার বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য সমর্থক ও ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ। মুফতি রায়হান জামিলের এই কর্মসূচি একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে এবং স্থানীয় নির্বাচনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থাকায় সব প্রার্থীই শান্তিপূর্ণ প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী হুমকি বা বাধার ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ নজরদারি অপরিহার্য। মুফতি রায়হান জামিলের সমর্থকদের কাফনের কাপড় পরিধান করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নজরকাড়া উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এছাড়া, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রার্থীর সুপরিচিতি ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলার একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার উদ্যোগগুলো নির্বাচনী প্রচারণাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং দরিদ্র ও অসহায় জনগণের জন্য সরাসরি সহায়তার সুযোগ তৈরি করছে।


