রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সংশ্লিষ্ট নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান সম্প্রতি ডাকসু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অবমাননাকর ও গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও নারী শিক্ষার্থীদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে এবং সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
রোববার রাত ৯টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে নারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ডাকসু একটি প্রতিনিধিত্বমূলক ছাত্র সংসদ। এ ধরনের মন্তব্য কেবল ডাকসুর নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের প্রতি অবমাননাকর। তারা বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন এবং ডাকসুর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান ও প্রতিবাদ প্রত্যাশিত।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে উদ্দেশ্যে ডাকসুতে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন, তা শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় ডাকসুর ভূমিকা ও সক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা ডাকসুর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা মো. শামীম আহসানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। তাদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের জন্য শুধু নিন্দা নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মো. শামীম আহসানের বক্তব্যকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি বহুত্ববাদী ও মুক্তচিন্তার শিক্ষাঙ্গন। এখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ধরনের মন্তব্যের ফলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে মো. শামীম আহসান এক বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ক্যাম্পাসে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদে নামেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্যের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা থেকে বিরত থাকা হবে।


