ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলামের

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলীয়ভাবে ঐক্য বজায় না থাকলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুকরা বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভোটের মাঠে কাউকে অবহেলা বা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, একটি নির্বাচনে সফল হতে হলে দলীয় প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমে ঐক্যই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি, বিভক্তি নয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ভোটারদের কাছে গিয়ে দলীয় অবস্থান ও কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।

শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য জনগণের ভোটাধিকার গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে তিনি দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কাওছার মাতুব্বর। বৈঠক পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ এবং জেলা যুবদলের নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদ।

বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংগঠনের ভেতরে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়ানো গেলে ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তাঁরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দলীয় প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচনী সময়কালে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

ফরিদপুর-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে অতীতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের উঠান বৈঠক দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ জোরদারে ভূমিকা রাখছে।

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় নির্বাচনী তৎপরতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য, সংগঠনের শক্তি এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী ফলাফলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ