রাজনীতি ডেস্ক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে ইসলামের নামে একটি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রতীক নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে দেশ পরিচালনায় পুরোনো ও ব্যর্থ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের রৌমারী উপজেলার সি জি জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এই জনসভায় আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র পরিচালনার গতিপথ এবং দলটির ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তাঁর মতে, স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, একাধিকবার আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতির তালিকায় দেশের নাম উঠে আসা প্রমাণ করে যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বারবার ব্যর্থতা দেখা গেছে।
বক্তব্যে তিনি অতীতের সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘদিন যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সময়ে সহিংসতা ও অনিরাপত্তার কারণে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময়েই দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর পাশাপাশি বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা রাষ্ট্রের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর বলেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে নতুন করে রাষ্ট্র গঠনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে তারা মনে করেন। সে সময় ইসলামী আদর্শের পক্ষে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় বা কাঠামো নিশ্চিত করার দাবি তারা তুলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলেও একটি গোষ্ঠী ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় সেই উদ্যোগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ওই গোষ্ঠী আবারও প্রচলিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা সামনে আনছে, যা অতীতে কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, যদি প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশকে কাঙ্ক্ষিত পথে নেওয়া সম্ভব হতো, তাহলে স্বাধীনতার পর এত দীর্ঘ সময়েও কেন সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
জনসভায় পীর সাহেব চরমোনাই অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও তা কোন নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে জনগণের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ইসলামী মূল্যবোধ ছাড়া প্রকৃত ইনসাফ সম্ভব নয় বলে তারা বিশ্বাস করে।
তিনি আরও জানান, ইসলাম, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে বিভিন্ন পক্ষ একসঙ্গে পথচলা শুরু করলেও সেই সম্মিলিত লক্ষ্য ক্ষুণ্ন হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজস্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলটি রাজনৈতিকভাবে একা থাকলেও আদর্শগতভাবে তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
এই নির্বাচনী জনসভায় কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান হাফিজ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরাও সভায় অংশ নেন। জনসভায় নেতারা দলীয় কর্মসূচি, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়েও বক্তব্য দেন।


