বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে এ ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে। ঘোষিত ছুটি ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে নির্বাচন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সুযোগ নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলের কর্মীদের জন্য নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে এবং নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি পূর্বনির্ধারিতভাবে সাধারণ ছুটি বহাল থাকবে। এই ধারাবাহিকতায় প্রজ্ঞাপন জারি করে ছুটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিক করা হলো।
ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির পরের দুই দিন যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সাধারণ কর্মজীবীদের জন্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটি কার্যকর হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ১০ ফেব্রুয়ারির বিশেষ ছুটি যুক্ত হওয়ায়, সাপ্তাহিক ছুটি বাদে টানা তিন দিন কর্মবিরতি পাওয়া যাবে। এই ব্যবস্থাকে শ্রমিকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা সাধারণত ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও শিল্পাঞ্চলে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভোটারের জন্য সময় ও যাতায়াতের সুবিধা তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও আবাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে আলাদা দিন ছুটি দেওয়ার নজির অতীতেও দেখা গেছে।
তবে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ছুটি প্রযোজ্য না হওয়ায় ভোট গ্রহণ ও গণনার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনার সুযোগ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারি ছুটি কার্যকর হলেও জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো আলাদা নির্দেশনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
সার্বিকভাবে, ঘোষিত ছুটি ব্যবস্থা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছুটি কার্যকর হলে ভোটারদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।


