দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির আরও ২১ নেতাকে বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির আরও ২১ নেতাকে বহিষ্কার

রাজনীতি ডেস্ক

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আরও ২১ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্য রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড দলীয় নীতিমালা ও নির্দেশনার পরিপন্থী বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ফকিরকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমও বহিষ্কারের তালিকায় রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের একাধিক নেতাকেও এ সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম এবং বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান উল্লেখযোগ্য।

নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ এবং গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহেরকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. মনির হোসেনের নামও বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, অনুমোদনহীন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা, সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অংশ হিসেবেই এই বহিষ্কার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থান অনুযায়ী, দলীয় স্বার্থ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ