জনসভায় রাজনৈতিক সংস্কার ও স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

জনসভায় রাজনৈতিক সংস্কার ও স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক

পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন এনে ভবিষ্যতের রাজনীতি জনগণকেন্দ্রিক হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে যশোরে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া ওই সমাবেশে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যে কাঠামো ও চর্চা চলে আসছে, তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী দিনের রাজনীতি কোনো একটি দলের স্বার্থে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের অধিকার ও অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে হবে। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ওই নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী না হলে সরকার গঠনের উদ্যোগ অর্থবহ হবে না। তিনি তাঁর বক্তব্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে স্বাধীনতা ও ‘না’ ভোটকে পরাধীনতার সঙ্গে তুলনা করে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন। এই বক্তব্যে তিনি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে নির্বাচনের ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান যশোরের স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর মতে, সিটি করপোরেশন হলে নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন।

বেকারত্ব সমস্যা নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, দলটি ক্ষমতায় গেলে বেকার যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চায়। তাঁর মতে, তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের একটি বড় শক্তি এবং তাদের দক্ষতা ও শ্রমকে কাজে লাগানো গেলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে এসেছে এবং তারা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি চায় না।

সমাবেশে বক্তারা সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক সংস্কার, স্বচ্ছ নির্বাচন এবং স্থানীয় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। আয়োজকদের মতে, এই জনসভার মাধ্যমে দলের রাজনৈতিক বার্তা স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দল জনসভা ও সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নীতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যশোরের জনসভাটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। জনসভা শেষে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিকভাবে, এই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচনকেন্দ্রিক অবস্থান এবং স্থানীয় উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এসব বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

Uncategorized রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ