রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকায় নিযুক্ত নবনির্বাচিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় ফিরে এসে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সোমবার রাতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিডিও বার্তায় ক্রিস্টেনসেন জানান, “আমি ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত। আমার স্ত্রী ডিয়েনও আমার সঙ্গে রয়েছেন। বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমি ২০০৪ সালে প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলাম। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে একজন কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের সৌজন্যবোধ, শক্তি ও দৃঢ়তা আমাদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।”
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “আমি আবার এ দেশে ফিরে এসেছি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে আমি প্রস্তুত আছি। দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে আমার দূতাবাসের সবাই এবং আমি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করব। আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করব এবং একে অপরের থেকে শিখব।”
এবারের নিযুক্তি তার পূর্ববর্তী বাংলাদেশের কাজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে। ২০০৪ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসার পর থেকে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বসবাসকালে স্থানীয় মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এই অভিজ্ঞতা তাকে দেশে ফিরে এসে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে। শিক্ষা, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। নতুন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের পর আশা করা হচ্ছে এই সহযোগিতা আরও দৃঢ় ও সমন্বিত হবে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রিস্টেনসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এই প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক দল স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে কাজ করবে।
অভিজ্ঞ কূটনীতিক হিসেবে তার ফিরতি পদক্ষেপকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সংলাপ ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বার্তা অনুযায়ী, ক্রিস্টেনসেন এবং তার দল এ অঞ্চলে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এছাড়া, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দুই দেশের মানুষ একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারে এমন সুযোগগুলোকে জোরদার করার উপর জোর দিয়েছেন। তার লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের ভিত্তি গড়ে তোলা, যা কেবল সরকারি কাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং জনগণের অংশগ্রহণেও বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পুনঃনিয়োগকালে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলবে।


