গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচনী তহবিল গঠনে জনগণের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণের আহ্বান

গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচনী তহবিল গঠনে জনগণের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণের আহ্বান

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে গণসংহতি আন্দোলন তার নির্বাচনী তহবিল গঠনের জন্য জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। দলটির প্রধান সমন্বয়কারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জোনায়েদ সাকি সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেছেন, “গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচনী তহবিল হোক আমাদের সম্মিলিত সামর্থ্যের যোগফল। মাথাল মার্কার ১৭ জন প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ বহনের জন্য জনগণই আমাদের ভরসা। আপনাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে আসুন।” তিনি বলেন, দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১৭ জন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে জনগণের স্বেচ্ছা অনুদানের ওপর নির্ভর করতে চায়।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ মূলত দলীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী তহবিলের জন্য জনগণকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং প্রচলিত তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমানো হবে।

ফেসবুক পোস্টে অনুদান পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিকাশের “সেন্ড মানি” ফিচার ব্যবহার করে অনুদান পাঠানো, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নির্দিষ্ট হিসাব নম্বরে অর্থ জমা দেওয়া এবং বিদেশ থেকে ভেনমোর মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে।

পদক্ষেপটি রাজনৈতিক দলগুলোতে স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অনুদান সংগ্রহ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক তহবিল ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারা হিসেবে উদ্ভাবনাত্মক হতে পারে, কারণ এতে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হতে পারবে।

এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে অংশগ্রহণকারীদের অবদান গ্রহণ করে আসছে। তবে গণসংহতি আন্দোলনের এই উদ্যোগে পারদর্শিতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংক এবং অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি অর্থায়ন করার সুবিধা রাখা হয়েছে, যা নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবরক্ষণকে আরও সুনির্দিষ্ট করবে।

দলটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি ভোটারদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। এটি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে আরও জনগণমুখী এবং স্বচ্ছ করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গণসংহতি আন্দোলনের এই আহ্বান নির্বাচনী মরশুমে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আর্থিক অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এসেছে। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারণার জন্য প্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংক্ষেপে, গণসংহতি আন্দোলন তাদের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণমুখী প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা দলীয় রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ