যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব

যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব

বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রশাসনের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ১১৮ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতির কার্যকারিতা, যোগদানপত্র দাখিলের নির্দেশনা এবং ভবিষ্যতে তথ্য যাচাই সাপেক্ষে আদেশ সংশোধন বা বাতিলের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের কর্মস্থল বা দপ্তর পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত অবস্থান থেকে ইতোমধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে, তাদের বর্তমান কর্মরত দপ্তরের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। এ যোগদানপত্র জনপ্রশাসন সচিবের নিকট সরাসরি অথবা নির্ধারিত ইমেইলের মাধ্যমে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নথিভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, সেই ক্ষেত্রে পদোন্নতির আদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা বাতিল করা হতে পারে। এ বিধান সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, যোগ্যতা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার প্রচলিত প্রশাসনিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বর্তমানে প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ২৮৫ জন। নতুন করে ১১৮ জন পদোন্নতি পাওয়ায় মোট অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৩ জনে। তবে অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা ২১২ হওয়ায় পদোন্নতিপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশকে বিদ্যমান কর্মস্থলে আগের পদে থেকেই (ইনসিটু) দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থায়ী পদসংখ্যার সীমাবদ্ধতার কারণে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশাসনে নতুন নয়।

প্রশাসনিক কাঠামোয় ইনসিটু পদোন্নতি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কর্মকর্তা পদোন্নতি পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নতুন পদে পদায়ন না হয়ে পূর্ববর্তী দায়িত্বেই কাজ চালিয়ে যান। এতে পদোন্নতির আর্থিক ও মর্যাদাগত সুবিধা কার্যকর হলেও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ব্যবস্থার ফলে প্রশাসনের চলমান কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

প্রশাসন ক্যাডারে পদোন্নতি সাধারণত জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসি আর/এপিআর), প্রশিক্ষণ এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত রেকর্ড পর্যালোচনার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এ পদোন্নতির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী ও তদারকি পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের জন্য একটি বড় সংখ্যক কর্মকর্তা প্রস্তুত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে। বিশেষ করে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর পর্যায়ে নীতি বাস্তবায়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং মাঠ প্রশাসনের তদারকিতে অতিরিক্ত সচিবদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা স্থায়ী পদের তুলনায় বেশি হওয়ায় পদায়ন পরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ পদোন্নতির সময়সূচি নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবসর, পদায়ন পুনর্বিন্যাস এবং নতুন কাঠামো অনুমোদনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই ভারসাম্য আনা হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে পদোন্নতির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও যোগদানপত্র দাখিল, নথি হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমন্বয়ের পরই পদোন্নতির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনে নেতৃত্বের স্তরে জনবল বৃদ্ধি পাবে, যা চলমান ও ভবিষ্যৎ সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ